টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছালেহ আহমদের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৫০)। ওসি প্রদীপের হাতে নিহত ছেলের ছবি হাতে নিয়ে ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত হালিমা সকাল থেকেই অ পেক্ষা করছিলেন কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গনে।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় ঘোষণার কথা শুনে ওসি প্রদীপের পরিণতি দেখতে সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সাত সকালেই টেকনাফ থেকে ছুটে এসেছিলেন তিনি।

২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর কথিত বন্ধুক যুদ্ধের নাটক সাজিয়ে তার ১৮ বছরের ছেলে মো. আবদুল আজিজকে হত্যা করে টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ দাশ।

কান্নারত হালিমা জানান, এর দুই দিন আগে আবদুল আজিজকে আ টক করে প্রদীপের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। পরে প্রদীপ ১০ লাখ টাকা দারি করে। অন্যথায় আবদুল আজিজকে ‘ক্রসফায়ার’ দেয়ার হুমকি দেয়।

হালিমা বলেন, তাড়াহুড়া করে বাড়ি ও বসত ভিটা বন্ধক দিয়ে নগদ ৬ লাখ টাকা প্রদীপের হাতে তুলে দেন। কিন্তু থানার গেইটে টাকাগুলো নিয়েই গেইট বন্ধ করে দেয় প্রদীপের আজ্ঞাবহ কনস্টেবল ও হালিমাকে বাড়ি চলে যেতে বলে। আশ্বাস দেয় আবদুল আজিজকে ছেড়ে দেয়া হবে। কিন্তু আবদুল আজিজ জীবিত বাড়ি ফিরেননি। বরং পরদিন মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাওয়া যায় হতভাগ্য আবদুল আজিজের গুলিবিদ্ধ লাশ।

হালিমা জানান, কিশোর ছেলেকে হারিয়ে সেই থেকে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে গেছেন তার স্বামী ছালেহ আহমদ। তছনছ হয়ে গেছে তার সাজানো গোছানো সংসার।

হালিমা জানান, এখন কান্নাই তার নিত্যদিনের সঙ্গী। সা রাদিন অপেক্ষার পর বিকেল সাড়ে ৪টায় বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপের ফাঁসির রায় দেন আদালত।
রায় শুনে শুকরিয়া আদায় করেন হালিমা খাতুন।

তিনি বলেন, প্রদীপের হাতে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। একই সাথে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবিও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.