আওয়ামী লীগ সরকার ভোট কারচ,পিতে হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আকাশে ঘনঘটা। এই সরকার প্রথমবার বিনা ভোটে, দ্বিতীয়বার রাতের ভোটে আর এবার ইভিএমে ভোট কারচুপি করতে চাচ্ছে। এতে ভোট যেখানেই দেন ভানুমতির খেলায় ভোট গিয়ে নৌকাতে পড়বে।’

রোববার ( ৮ মে) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আছে, দুঃখও আছে। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন তারপর বুদ্ধি খাটান কীভাবে ভোট করা যায়। আপনি যদি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারেন তাহলে ভালো। আর না দিতে পারলে আপনার নৈতিক দায়িত্ব হবে পদত্যাগ করা। সঠিক কাজটি করতে না পারলে অন্তত ভ,ল কইরেন না।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘পৃথিবীর ২০০ দেশে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী। তাদের শ্রমে ঘামে আমাদের দেশ গড়া। এই প্রবাসীরাও মুক্তিযোদ্ধা। আমরা যুদ্ধ করেছি দেশ স্বাধীন করার জন্য। আর প্রবাসীরা যুদ্ধ করছে দেশ গড়ার জন্য। আমি আহ্বান জানাবো প্রবাসীরা দেশে আসলে তাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ব্যবস্থা করা হোক। তাদের প্রতি আরও একটু ভালো ব্যবহার করা হোক। এদের অনেক ঝামেলার সাথে আছে পাসপোর্টের ঝামেলাও। এসব সমস্যা দূর করতে হলে প্রয়োজন একটি গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা।’

আলোচনা সভায় গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘ভোটচুরি, গুম, হত্যা আর কত অপরাধের কথা বলতে হবে? আপনারা সামনে বা পেছনের দরজা না, জানালা ভেঙে ঘরে ঢ,কেছে। আমাদের সবার একত্রে রাস্তায় নেমে এই সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলন করতে হবে।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহম,দুর রহমান মান্না বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেছেন তাদের অপরাধ কী? বিদেশে বাঙালিদের লাশ পড়ে থাকে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কী করে? চলে যেতে বলছি কেন? ১৩ বছর ধরে বিনা ভোটে ক্ষমতায় আছেন। এবার মেহেরবানি করে নামেন। এই সরকারের অধীনে কেউ নির্বাচনে যাবে না। যারা এর অধীনে নির্বাচন করবে তারা জাতীয় বেইমান।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘এ সরকার দেশে এবং বিদেশে যারা বসবাস করে তাদের সরকার নয়। তারা হলো লুটপাটের সরকার। শেখ হাসিনার সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে বাংলাদেশের তত বেশি ক্ষতি হবে। তারা ব্যস্ত বিদেশে বেগমপাড়া তৈরি করে দেশের সম্পদ পাচারে। আসুন সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন একসাথে এক ও অভিন্ন কর্মসূচির দিয়ে মহা দ,র্নীতিবাজ হাসিনা সরকার হটানোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন বলেন, ‘করোনার কঠিন সময়ে অনেক প্রবাসী ভাই আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, তারা টাকা পাঠাতে পারছিলেন না, তখন আমরা প্রবাসী অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা তাদের পরিবারকে সাপোর্ট দিয়েছি, যা অন্য কোনো সংগঠন করেনি। আমরা মনে করি বাংলাদেশ থেকে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। দেশে তাদের পরিবারসহ জনসংখ্যা চার কোটির মতো। এই চার কোটি মানুষকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হানিফ বলেন, ‘সরকার যে রেমিটেন্স নিয়ে বড়াই করে সেই রেমিটেন্স মূলত প্রবাসীরা পাঠিয়েছে। বিশেষ করে গত ১১ মাস গত এপ্রিলে সব থেকে বেশি রেমিটেন্স এসেছে দুইশ কোটি টাকা। অথচ সরকার এই প্রবাসীদের প্রতি সবচেয়ে বেশি উদাসীন। প্রবাসীদের প্রতি বিরূপ আচরণ করছে। প্রবাসীরা যখন টিকিটের জন্য বিক্ষোভ করছিল তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন এখানে নাকি ভিপি নুরের সংগঠনের উস্কানি আছে। আমরা তাকে বলতে চাই, এরকম ভালো কাজে যদি নুরের সংগঠন উস্কানি দিয়ে থাকে, তবে এই উস্কানি অব্যাহত থাকবে।’

গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রবাসী অধিকার পরিষদ প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বাইরের দেশের মর্গে প্রায় সাত-আট মাস ধরে প্রবাসীদের লাশ পরে থাকে। সরকার নিয়ে আসার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। আমরা প্রবাসী অধিকার পরিষদ ফান্ড কালেকশন করে লাশ নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছি। এধরনের না নাভাবে আমরা প্রবাসীদের পাশে রয়েছি।’

আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার ও গণঅধিকার পরিষদের পরিষদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.